দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস পূর্বনির্ধারিত স্থান নালিয়ারদোলায় নির্মাণের দাবিতে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের আমিন বাজারে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে নালিয়ারদোলাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে নির্বাচন করা হলেও এখন একটি পক্ষ সেটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এতে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
স্থানীয় শিক্ষক নুরনবী সরকার বলেন, নালিয়ারদোলায় পর্যাপ্ত খাসজমি রয়েছে এবং এটিই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান। পূর্বের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে দ্রুত সেখানে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ শুরু করার দাবি জানান তিনি।
নারী নেত্রী মেরিনা আক্তার বলেন, সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জমি অধিগ্রহণের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু একটি চক্র বিশ্ববিদ্যালয় অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা করছে। এতে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে রাজনীতি শুরু হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা স্থায়ী ক্যাম্পাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, একই সময়ে প্রতিষ্ঠিত দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মিত হলেও কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এখনো স্থান-সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে আছে। দ্রুত নালিয়ারদোলায় ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ শুরু না হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
আবৃত্তিশিক্ষক আবদুর রশীদ বলেন, জেলার প্রায় সব উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে হওয়ায় নালিয়ারদোলা যোগাযোগের দিক থেকে সুবিধাজনক। সড়ক, রেল ও নৌপথের পাশাপাশি ভারতের সাতটি রাজ্যের সঙ্গেও এ এলাকার যোগাযোগ রয়েছে। তাই পূর্বনির্ধারিত স্থানেই স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে এক জনসভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুড়িগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কারিগরি কমিটির সুপারিশে সদর উপজেলার নালিয়ারদোলাকে স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান হিসেবে নির্বাচন করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সেখানে প্রায় ২৬০ একর জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে বিভিন্ন জটিলতায় এখনো স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ শুরু হয়নি। বর্তমানে জেলা শহরের ভোকেশনাল মোড় এলাকার দুটি ভাড়া ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে।
মানববন্ধনে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচি চলাকালে কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এমএস/